পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম পৃথক দুটি মামলায় আইনি স্বস্তি পেয়েছেন।
ভুয়া ও অস্তিত্বহীন ব্যক্তির নামে জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যুর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুর্নীতির মামলায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মামলাটি পরিসমাপ্তি ঘোষণা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যুর অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায় গত ৪ আগস্ট চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান ঘোষণা করেন। রায়ে সাবেক চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়।
একই মামলায় মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব মোহাম্মদ নূরুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আদালতে দুদকের পক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন জানান, মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, নথিপত্র ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত সাবেক সচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দেন। তবে সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াসিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য হামিদা খালেদ টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে চেয়ারম্যান ওয়াসিমের বিরুদ্ধে আদালতে একটি দুর্নীতির মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের দীর্ঘ তদন্তে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ কিংবা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে কমিশন মামলাটি পরিসমাপ্তি ঘোষণা করে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে।
রায় ও তদন্ত-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম বলেন, জন্মনিবন্ধনের কারিগরি কার্যক্রম ও কোড ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের ওপর ন্যস্ত থাকে। তদন্তকারী কর্মকর্তা নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে আগেই তাকে অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন। আদালতও চূড়ান্তভাবে তাকে খালাস দিয়েছেন।
দুর্নীতির মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ তদন্তের পরও অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়নি। এজন্য তিনি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।
ওয়াসিম দাবি করেন, চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি মগনামা ইউনিয়নের অবকাঠামো উন্নয়ন, উপকূলীয় বেড়িবাঁধ সংস্কার এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছেন। এসব কর্মকাণ্ডের জের ধরে একটি মহল তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা অভিযোগ ও মামলা করেছে। আদালতের রায় এবং দুদকের তদন্তে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, উপকূলীয় একটি বেড়িবাঁধ সংস্কার প্রকল্পের কাজ তিনি নিজস্ব অর্থায়নে সম্পন্ন করেছিলেন। পরবর্তীতে বিল-সংক্রান্ত বিরোধ ও ভুল বোঝাবুঝির জেরে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হলেও তদন্তে এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
সাবেক এই চেয়ারম্যান বলেন, ভবিষ্যতেও আইন ও বিচার বিভাগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে মগনামাবাসীর পাশে থেকে এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যেতে চান।
